সূরা নাবা এর ২নং আয়াতের তাফসির
পবিত্র কুরআনেড়র সূরা আন-নাবার শুরুতে আল্লাহ তাআলা একটি অত্যন্ত গভীর ও চিন্তাশীল প্রশ্ন দিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। সূরার দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে:
عَنِ النَّبَاِ الْعَظِيمِ
"সেই মহাসংবাদ সম্পর্কে (তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছে)।"
এই ‘মহাসংবাদ’ আসলে কী?
এই "মহাসংবাদ" বা "আন-নাবা আল-আজিম" বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে তাফসীরবিদদের চমৎকার কিছু বিশ্লেষণ রয়েছে। বিখ্যাত মুফাসসিরদের মতে, এর প্রধানত দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে:
১. কিয়ামত বা পুনরুত্থান: অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, এখানে কিয়ামত এবং মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে। তৎকালীন আরবের কাফেররা এটি নিয়ে মনে মনে সন্দেহ পোষণ করত এবং বিদ্রুপ করে একে অপরের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইত।
২. পবিত্র কুরআন: কোনো কোনো তাফসীরবিদের মতে, এই মহাসংবাদ হলো স্বয়ং পবিত্র কুরআন। কারণ কুরআনই মানুষকে পরকাল এবং সত্যের পথে চলার সবচেয়ে বড় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
কেন একে 'মহা' বা 'আজিম' বলা হয়েছে?পৃথিবীতে প্রতিদিন আমরা কত শত খবর শুনি, কিন্তু তার বেশিরভাগই সাময়িক। অথচ পরকালের সংবাদ এমন একটি বিষয়, যা প্রতিটি মানুষের অস্তিত্বের সাথে জড়িত। এটি এমন এক ধ্রুব সত্য যার পর আর কোনো সংশয় থাকবে না এবং মানুষের কর্মফল অনুযায়ী তার শেষ ঠিকানা নির্ধারিত হবে। তাই এর চেয়ে বড় সংবাদ আর কিছুই হতে পারে না।
জীবন বদলে দেওয়ার মতো শিক্ষা: সূরা আন-নাবার এই আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের জীবন কেবল এই দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। পরকাল নিয়ে উদাসীন থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আমরা প্রতিদিনের নানা বিষয়ে মগ্ন থাকলেও, দিনশেষে সেই কিয়ামতের দিনের প্রস্তুতিই হওয়া উচিত আমাদের মূল লক্ষ্য।
পরকাল কোনো কাল্পনিক ধারণা নয়, বরং এটি একটি অকাট্য সত্য। এই সংবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং সেই অনুযায়ী নিজের জীবনকে সাজানোর মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সার্থকতা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।
Comments
Post a Comment