الَّذِي هُمْ فِيهِ مُخْتَلِفُونَ (সূরা আন-নাবা : আয়াত ৩)
“যে বিষয়ে তারা পরস্পরের মধ্যে মতানৈক্যে লিপ্ত।”
পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে, যাকে কুরআনে বলা হয়েছে ‘মহা সংবাদ’। কিন্তু এই সত্য বিষয়টি নিয়েই মানুষের মধ্যে একমত দেখা যায় না। বরং কেউ বিশ্বাস করেছে, কেউ সন্দেহে পড়েছে, আবার কেউ একেবারেই অস্বীকার করেছে।
মুফাসসিরগণের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এখানে মূলত কিয়ামত, আখিরাত এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থান–এর কথাই বলা হয়েছে। এই বিষয়গুলো মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হওয়া সত্ত্বেও অবিশ্বাসীদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ ছিল।
কেউ বলত, আখিরাত বলে কিছু নেই।
কেউ বলত, হয়তো ঘটতে পারে—আবার নাও হতে পারে।
আবার কেউ একে নিছক অনুমান ও কল্পনা হিসেবেই দেখত।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আমরা তো কেবল ধারণাই করি, আমাদের কোনো নিশ্চিত বিশ্বাস নেই।”
(সূরা আল-জাসিয়াহ: ৩২)
আবার আরেক দল আরও স্পষ্টভাবে বলত—
“এই দুনিয়ার জীবনই সবকিছু। এখানেই আমরা বাঁচি, এখানেই মরি।”
(সূরা আল-আন‘আম: ২৯)
কিছু আলেমের মতে, এই আয়াতে যে ‘মহা সংবাদ’-এর কথা বলা হয়েছে, তার দ্বারা পবিত্র কুরআনকেও বোঝানো হয়েছে। কারণ কুরআন নাযিল হওয়ার পর কাফেররা একে কখনো জাদু, কখনো কবিতা, কখনো পূর্বপুরুষদের গল্প বলে আখ্যায়িত করত। এ বিষয়েও তাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত ছিল।
তাফসীরে জাকারিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে—এই প্রশ্ন ও মতভেদের মধ্যে মুমিন ও কাফের উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল। মুমিনদের প্রশ্ন ছিল সত্য বোঝা ও ঈমান দৃঢ় করার জন্য, আর কাফেরদের প্রশ্ন ছিল ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও উপহাসের উদ্দেশ্যে।
এই আয়াত আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে—সত্য একটাই, কিন্তু মানুষ নিজের প্রবৃত্তি, অহংকার ও অজ্ঞতার কারণে তাতে মতভেদ সৃষ্টি করে। আখিরাত ও আল্লাহর বাণী নিয়ে সন্দেহ নয়, বরং দৃঢ় বিশ্বাসই একজন মুমিনের পরিচয়।
﴿ الَّذِي هُمْ فِيهِ مُخْتَلِفُونَ ﴾
মানুষ মতভেদে লিপ্ত থাকলেও আল্লাহর সত্য অটল ও অপরিবর্তনীয়।
Comments
Post a Comment